আইওটির মতো দেশীয় কোম্পানিগুলো দেশেই রোবট তৈরি করে তা বিদেশে রপ্তানি করতে সম্ভব হবে এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রতিটি প্রযুক্তি পণ্য সেবাই বাংলাদেশের মাটিতে উৎপাদন করতে সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
রবিবার (১৫ নভেম্বর) টঙ্গীতে নিজস্ব জায়গায় আল আমিন এন্ড ব্রাদার্সের ফাইভ স্টার মোবাইল ফোনের নবনির্মিত ফ্যাক্টরির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
২০০৮ সালে ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি দূরদর্শী বৈপ্লবিক কর্মসূচি উল্লেখ করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীবলেন, ইংল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান. ভিয়েতনাম এবং মালদ্বীপসহ বিশ্বের অনেক দেশ এমনকি ২০১৬ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ঘোষণার মধ্য দিয়ে ডিজিটাল বিশ্ব ঘোষণা প্রদান করে। করোনাকালে অচল জীবনযাত্রা সচল রাখতে এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের মানুষের জীবন যাত্রা উন্নত বিশ্বের মানুষের জীবন যাত্রা থেকে পিছিয়ে থাকেনি। এশিয়ার অনেক দেশের জিডিপি যেখানে ঋণাত্নক সেখানে বাংলাদেশ শতকরা ৫দশমিক ৮ ভাগ থেকে ৭ ভাগ জিডিপি অর্জন করে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের সুফলের ধারাবাহিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশীরা প্রযুক্তি ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার জাতি নয় উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ভীতু বাঙালী ও তলাবিহিনী ঝুড়ি শেখ হাসিনার বাংলাদেশী নয়। ভারত-পাকিস্তান নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে থাকলেও বাংলাদেশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে। ভিয়েতনামও বাংলাদেশের কাছে সহযোগিতা প্রত্যাশা করে।
দেশের দশম মোবাইল ফোন কারখানার উদ্বোধনী বক্তব্যে ফাইভ স্টার আগামীতে অন্যান্য ডিজিটাল পণ্যও উৎপাদন করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছে মন্ত্রী।
তিনি বলেছেন, দেশে শুধু ডিভাইসের নয়, জীবনযাত্রার ডিজিটাল রূপান্তর ঘটেছে। এখন শুধু সুসংবাদই শোনা যাবে।
মোস্তাফা জব্বার আরো বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ডিজিটাল ডিভাইস বিশেষ করে স্মার্ট ফোন মানুষের জীবন যাত্রায় শ্বাস প্রশ্বাসের মতো অপরিহার্য। ১৯৬৪ সালে আইবিএম কম্পিউটারে যা করা যেতো স্মার্ট ফোনে এখন তার চাইতে হাজার গুন বেশি কিছু করা হচ্ছে। দেশে ডিজিটাল ডিভাইস বিকাশের অগ্রদূত জনাব মোস্তাফা জব্বার বলেন, জাতিগতভাবে বাঙালির বড় শক্তির নাম হচ্ছে মেধা। তিনি বলেন, দেশে ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদ এর দিক নির্দেশনায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ প্রায় প্রতিটি ইউনিয়ন উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের আওতায় আনার কার্যক্রম প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পথে। ৪জি মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত সম্প্রসারণের কার্যক্রম চলছে। সরকারের যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতার ফলে আমাদের সন্তানেরা রোবটও উৎপাদন করবে এবং বিদেশে তা রপ্তানি করবে এবং সেদিন বেশি দূরে নয়।

অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, বিটিআরসি চেয়ারম্যান মোঃ জহুরুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র, সেপেক্ট্রাম বিভাগের ডিজি মোঃ শহীদুল আলম, পরিচালক লেঃ কর্ণেল মোহাম্মাদ ফয়সল, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোঃ আজাদ মিয়া, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা মহাজোটের চেয়ারম্যার মনিরুল হক এবং ফাইভ স্টার ডিজিটেক ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো: অলি উল্লাহ এসময় উপস্থিত ছিলেন।